'মিথ্যা চাঁদাবাজির' মামলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাসেলকে গ্রেফতার ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাশেদুলের বড়ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তোলেন।
তরিকুল অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাশেদুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।তবে অভিযুক্ত বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ও ফাইনান্স কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ছানোয়ারুল ইসলাম রাঙা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "রাসেল ২০২৩ সালে প্রথমবার আমার কাছে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে বিভিন্ন সময় সে আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে।"
সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল জানান, তাদের প্রতিবেশী ছানোয়ারুল ইসলাম রাঙা আরডিএর অনুমতি ছাড়া অনিয়ম করে তাদের বাড়ির পাশেই আটতলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন যা একটি মহিলা ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছয়তলা পর্যন্ত অনুমতি থাকলেও রাঙা আটতলা ভবনটি নির্মাণ করে এবং চারপাশে পর্যাপ্ত রাখেনি। একারণে তাদের বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও বারান্দায় নিয়মিত ময়লা, এমনকি ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন পর্যন্ত নিক্ষেপ করা হয়।
সমস্যার সমাধান চেয়ে রাশেদুল বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। এরপর রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলে, সংস্থাটি তদন্ত করে ছানোয়ারুল ইসলামকে ২৫ জুন চিঠি দিয়ে এবং ৯ জুলাই শুনানিতে ডেকে পাঠায়। তবে তিনি আরডিএ’র ডাকে সাড়া দেননি রাঙা।
তরিকুলের দাবি, এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছানোয়ারুল ও তার স্ত্রী রাশেদুলকে আর্থিক প্রলোভন, ভয়ভীতি এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দিতে শুরু করেন। এমনকি তাদের ম্যানেজারের অফিস থেকে টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগে রাশেদুলকে ফাঁসানোরও হুমকি দেওয়া হয়।অবশেষে ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালাইমারির নিজ বাসা থেকে রাশেদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় বাসায় শুধুমাত্র মা ছিলেন এবং গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কোনো ওয়ারেন্ট দেখায়নি। পুলিশ জানায়, থানায় গিয়ে ওয়ারেন্ট দেখাবে।
সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুটি চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। একটি মামলায় তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অন্যটিতে ৩৬ জনের নাম থাকলেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে রাশেদুলের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে।জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছানোয়ারুল ইসলাম রাঙা বলেন, "রাসেল বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে চাঁদা চেয়েছে- এ সম্পর্কিত প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। এছাড়াও আমার বাসায় থাকা রাবি এবং রুয়েটের ছাত্রীদের রুমের ভিতরের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এসব ঘটনার প্রমাণও আমার কাছে রয়েছে।"