ঐতিহাসিক পলাশী দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মৌন র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর হেরিটেজ স্টাডিজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া র্যালিটি প্যারিস রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।উদ্বোধনী বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, “পলাশীর যুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, বিশ্বাসঘাতকতা ও রাজনৈতিক ঐক্যের অভাবে একটি জাতির ভাগ্যে নেমে আসে অন্ধকার সময়। এই শিক্ষাটি গ্রহণ করতে আমাদের মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিলে তার পরিণতি হয় ভয়াবহ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত মীরজাফরদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া এবং তাদের থেকে দূরে থাকা। যারা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তাদের প্রতিহত করাই হবে আমাদের দায়িত্ব।”
ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, “পলাশীর যুদ্ধে শুধু শাসনব্যবস্থা নয়, আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির পথও রুদ্ধ হয়েছে। আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ভিন্ন সংস্কৃতি। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা শহীদদের স্মরণ করছি এবং একটি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিময় ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং সঞ্চালনা করেন ‘উত্তরণ প্রকাশ’-এর প্রকাশক মহব্বত হোসেন মিলন।
বক্তব্য রাখেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম সফিউর রহমান, চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হীরা সোবহান, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব মৃধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেশকাত চৌধুরী মিশু, উর্দু বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন এবং ছাত্র ফেডারেশন রাবি শাখার সাবেক সভাপতি রায়হান আলী।
প্রসঙ্গত, ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশীর ইতিহাসকে স্মরণে রাখতে ও পলাশীর শিক্ষাকে ধারণ করতে প্রথমবারের মতো সেন্টার ফর হেরিটেজ স্টাডিজের উদ্যোগে রাবিতে এমন আয়োজন করা হয়